অস্ত্র অনুমোদন

                                                                                     ব্যক্তি পর্যায়ে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান।

 

                                                                                               সাধারণ যোগ্যতাঃ

 

(ক) আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রাপ্তির জন্য আবেদনকারীকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে।

(খ) শারীরিক ও মানসিকভাবে সমর্থ ৩০ থেকে ৭০ বছর বয়সের কোন উপযুক্ত/যোগ্য ব্যক্তিকে তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স দেয়া যাবে।

(গ)আবেদনকারীকে ‘ব্যক্তি শ্রেণির’ আয়করদাতা হতে হবে।

(ঘ)আবেদনকারী কর্তৃক আবেদনের পূর্ববর্তী ০৩ (তিন) কর বছরে ধারাবাহিকভাবে পিস্তল/ রিভলবার/রাইফেল এর ক্ষেত্রে ন্যূনতম ০৩ (তিন) লক্ষ টাকা এবং শটগান এর ক্ষেত্রে ন্যূনতম ০১ (এক) লক্ষ টাকা আয়কর দিতে হবে। আবেদনকারী কর্তৃক পরিশোধিত আয়করের পরিমাণ উল্লেখসহ এনবিআর কর্তৃক ইস্যুকৃত প্রত্যয়নপত্র আবেদনের সাথে দাখিল করতে হবে।

(ঙ)প্রবাসী বাংলাদেশী/বাংলাদেশী দ্বৈত নাগরিকের ক্ষেত্রে আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্সের জন্য আবেদনের যোগ্যতা হিসেবে ধারাবাহিকভাবে সর্বশেষ ৩ বছরে প্রতিবছর ন্যূনতম ১২,০০,০০০/- (বার লক্ষ) টাকা হারে রেমিটেন্স এবং বিদেশে আয়কর প্রদানের প্রমাণপত্র থাকতে হবে। রেমিটেন্সকৃত অর্থ শুধু যে সকল সরকারি বা বেসরকারি ব্যাংক এর মাধ্যমে প্রেরণ করা হয়েছে ঐ সকল ব্যাংকের প্রত্যয়নপত্র দাখিল করতে হবে।

 

                                                                                 

                                                                                সর্বোচ্চ লাইসেন্স ও আগ্নেয়াস্ত্রের সংখ্যা

 

(ক) উপযুক্ত ব্যক্তির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জারীকৃত এ পরিপত্রের বিধি নিষেধ সাপেক্ষে সর্বোচ্চ একটি এনপিবি পিস্তল/রিভলবার এবং একটি শটগান/এনপিবি রাইফেল অস্ত্রের লাইসেন্স দেয়া যাবে। অর্থাৎ একজন যোগ্য ব্যক্তিকে দুইটির অধিক অস্ত্রের লাইসেন্স দেয়া যাবে না। আবেদনকারীর আগ্নেয়াস্ত্র সংক্রান্ত তথ্য সরকার কর্তৃক নির্ধারিত মূল্যের নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে ঘােষণাপত্র প্রদান করতে হবে (পরিশিষ্ট ২)।

(খ) তবে যাদের ইতিমধ্যে দুই এর অধিক আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স রয়েছে তা বহাল থাকবে। দুই এর অধিক কোন আগ্নেয়াস্ত্র থেকে বিক্রি/হস্তান্তর/হারানোর মাধ্যমে আগ্নেয়াস্ত্র হস্তচ্যুত হলে তার পরিবর্তে নতুন কোন লাইসেন্স প্রাপ্ত হবেন না।

(গ) নিবন্ধিত শূটারদের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ শূটিং স্পোর্ট ফেডারেশনের সুপারিশের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট শূটারকে সর্বোচ্চ তিনটি অস্ত্রের লাইসেন্স দেয়া যাবে।

 

                                                                                                   

                                                                                                         অযোগ্যতাঃ

 

(ক) কোন ব্যক্তি যদি কোন ফৌজদারি মামলার চার্জশীটভুক্ত আসামী হিসেবে থাকেন তাহলে ঐ ব্যক্তিআগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স প্রাপ্তির যোগ্যতা অর্জন করবেন না।

(খ) কোন ব্যক্তি ফৌজদারি আদালত কর্তৃক চূড়ান্তভাবে সাজা বা দন্ড প্রাপ্ত হলে দন্ড সমাপ্তির ৫ (পাঁচ) বছরের মধ্যে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রাপ্তির যোগ্যতা অর্জন করবেন না।

 

                                                                                                     আবেদনের স্থান

 

আবেদনকারীকে অবশ্যই স্থায়ী ঠিকানার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর নির্ধারিত ছক (পরিশিষ্ট-৩) এ আবেদন করতে হবে। সামরিক বাহিনীর সদস্যগণকে The Bengal Arms Act Manual ১৯২৪ এর ২ নং চ্যাপ্টারের ৪০ নং অনুচ্ছেদের বিধান মোতাবেক স্থায়ী নিবাসের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর আবেদন করতে হবে। সরকারি কর্মকর্তা/কর্মচারীগণ যথাযথ কর্তৃপক্ষের সুপারিশসহ কর্মরত এলাকার/স্থায়ী নিবাসের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবরে আবেদন করতে পারবেন। অবসরপ্রাপ্ত সামরিক/বেসামরিক সরকারি কর্মকর্তা/কর্মচারীগণ যথাযথ কর্তৃপক্ষের প্রত্যয়নসহ স্থায়ী নিবাসের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবরে আবেদন করতে পারবেন।

 

                                                                                         কার্যক্রম

 

(ক) আবেদনকারী নির্ধারিত ফরমে আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্সের জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর আবেদন দাখিলের

পর জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নির্ধারিত ফরমে (পরিশিষ্ট-৪) পুলিশের মাধ্যমে আবেদনকারীর প্রাক-পরিচয় যাচাই করবেন।

(খ) জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবেদনকারীর সাক্ষাৎকার গ্রহণ করবেন এবং আবেদনকারীর শারীরিক ও মানসিক সামর্থ্য, আবেদনকৃত অস্ত্র এবং এর রক্ষণাবেক্ষণ সম্পর্কে তার জ্ঞান ও অস্ত্রের প্রয়োজনীয়তা বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে নির্ধারিত ফরমে (পরিশিষ্ট-৫) মন্তব্য লিপিবদ্ধ করবেন।

 

                                                                                               ইস্যুকারী কর্তৃপক্ষ

 

(ক) সকল আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান অনুসরণ সাপেক্ষে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট  ক্ষমতাবান থাকবেন। জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয়ের আগ্নেয়াস্ত্র শাখায় উক্ত জেলার ইস্যুকৃত সকল আগ্নেয়াস্ত্রের রেকর্ড সংরক্ষিত হবে। শটগান/এনপিবি রাইফেল লাইসেন্সের ক্ষেত্রে আবেদনকারীর অস্ত্রের লাইসেন্স প্রাপ্তির বিষয়টি যাচাই বাছাইপূর্বক সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এর নিকট যোগ্য বিবেচিত হলে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লাইসেন্স ইস্যু করার নির্দেশ দেবেন।

(গ) পিস্তল/রিভলবার এর ক্ষেত্রে আবেদনকারীর অস্ত্রের লাইসেন্স প্রাপ্তির যোগ্যতা যাচাই বাছাইপূর্বক সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এর নিকট যোগ্য বিবেচিত হলে সুপারিশ সহকারে প্রস্তাবটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করবেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনাপত্তি জ্ঞাপন করা হলে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লাইসেন্স ইস্যু করবেন। কোন আবেদনকারী নীতিমালায় নির্ধারিত যোগ্যতা সম্পূর্ণরূপে অর্জন না করলে তার আবেদন মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করতে পারবেন না।

 

                                                      ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান

 

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা ব্যাংক কর্তৃপক্ষের আবেদনের ভিত্তিতে শুধুমাত্র শটগান/এনপিবি রাইফেল আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স ঐ প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে দেয়া যাবে।

 

                                                          ব্যাংক শাখা বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শ্রেণি ও আগ্নেয়াস্ত্রের সীমা

 

(ক) ব্যাংক শাখা বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নগদ সংরক্ষণের সিন্দুক সীমা অনুযায়ী শাখাসমূহকে নিম্নবর্ণিত তিনভাগে ভাগ করা হলো। সিন্দুকসীমা অনুযায়ী আবেদনকারী প্রতিষ্ঠান কোন্ শ্রেণির হবে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয় নিশ্চিতপূর্বক কতটি আগ্নেয়াস্ত্রের প্রয়োজন তা উল্লেখ করে প্রত্যয়নপত্র প্রদান করবে। আবেদনপত্রের সাথে উক্ত প্রত্যয়নপত্র দাখিল করতে হবে।

শ্রেণি

 

সিন্ধুক সীমা

 

১২ বোর বন্দুক/ শটগানের প্রাপ্যতা

 

গোলা বারুদের প্রাপ্যতা

 

সি

সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা

 

০২টি

 

সর্বোচ্চ ১০০টি (প্রতিটি আগ্নেয়াস্ত্রের জন্য)

 

বি

১ কোটি টাকার ঊর্ধ্বে কিন্তু ৫ কোটি

টাকার নিম্নে

০৩টি

 

৫ কোটি টাকার উর্ধ্বে

 

০৪টি

 

(খ)অনুচ্ছেদ ১০.(ক) এ বর্ণিত আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সের অতিরিক্ত হিসেবে ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে নিজস্ব অর্থ পরিবহণের নিমিত্ত নিয়োজিত প্রত্যেকটি গাড়ির জন্য সর্বোচ্চ দুইটি করে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান করা যাবে। লাইসেন্সের আবেদনের সাথে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারকারী গার্ড নিয়োগ সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং অর্থ পরিবহণের জন্য ব্যবহৃত গাড়ির সংখ্যা উল্লেখকরতঃ প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয় কর্তৃক প্রত্যয়নপত্র প্রদান করতে হবে। তবে শর্ত থাকে যে অর্থ পরিবহণের জন্য ব্যাংকের কোন শাখাকে ৫টির অধিক গাড়ির জন্য আগ্নেয়াস্ত্র প্রদান করা যাবে না।

 

                                                                                 সাধারণ যোগ্যতা ও আবেদনকারীর কার্যক্রম

 

 

(ক) ব্যাংকের পক্ষে অস্ত্রের লাইসেন্সের জন্য আবেদনকারীকে অবশ্যই ব্যাংক শাখা বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান/ব্যবস্থাপক হতে হবে। ব্যাংক/প্রতিষ্ঠানের শাখা খোলার শুরু হতে উক্ত শাখার জন্য নির্ধারিত সংখ্যক আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সের জন্য শাখা প্রধান/ব্যবস্থাপক কর্তৃক প্রয়োজনীয় তথ্যাদিসহ সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর নির্ধারিত ছকে (পরিশিষ্ট-৬) আবেদন করবেন। তবে শাখার কার্যক্রম শুরুর সময় হতে আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স প্রাপ্তির মধ্যবর্তী সময়ে অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের মাধ্যমে শাখার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন।

আবেদনকারীকে অবশ্যই এ ক্ষেত্রে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নাম, ঠিকানা, নতুন শাখা খোলার প্রত্যয়নপত্র, আগ্নেয়াস্ত্র ক্রয় সংক্রান্ত প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশনা,প্রার্থিত আগ্নেয়াস্ত্রের ধরণ,আবেদিত ব্যাংক শাখা/আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অর্গানােগ্রাম ও জনবল, আয়কর সংক্রান্ত তথ্যাদি, ব্যাংকের/প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা বিবরণী,বর্তমান মালিকানায় আগ্নেয়াস্ত্রের সংখ্যা,গার্ডের জীবন বৃত্তান্ত,গার্ডের অস্ত্র পরিচালনা সনদপত্র,অস্ত্র প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত কর্মচারীর সংখ্যা এবং প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত সনদপত্র, বাড়ি ভাড়া চুক্তি ইত্যাদিসহ আবেদনপত্র সরকারের বিবেচনার জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয়ে দাখিল করতে হবে।

 

                                                                                      ইস্যুকারী কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম

 

(ক) আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্সের আবেদন প্রাপ্তির পর জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নির্ধারিত ফরমে (পরিশিষ্ট-৭) আবেদনকারী কর্তৃক প্রদত্ত গার্ডের প্রাক পরিচয়সহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অস্ত্রের প্রয়োজনীয়তা বিষয়ে পুলিশ প্রতিবেদন সংগ্রহ করবেন।

(খ) জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবেদনকারী এবং আবেদনে বর্ণিত গার্ডের সাক্ষাতকার গ্রহণ করবেন। এ সময় তিনি গার্ডের শারীরিক ও মানসিক সামথ্য, আবেদনকৃত অস্ত্র ও এর রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়ে তাদের জ্ঞান সম্পর্কে নিশ্চিত হবেন। সাক্ষাতকার গ্রহণের সময় তিনি প্রয়োজনে পুলিশ সুপার এবং সিভিল সার্জনের প্রতিনিধির সহায়তা নিতে পারেন। তাছাড়া তিনি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অস্ত্রের প্রয়োজনীয়তা নিশ্চিত হয়ে নির্ধারিত ফরমে (পরিশিষ্ট-৮) মন্তব্য লিপিবদ্ধ করবেন।

(গ) আবেদনকারীর অস্ত্রের লাইসেন্স প্রাপ্তির বিষয়টি যাচাই বাছাইপূর্বক সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এর নিকট যোগ্য বিবেচিত হলে সুপারিশ সহকারে প্রস্তাবটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করবেন।

(ঘ) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনাপত্তি জ্ঞাপন করা হলে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লাইসেন্স ইস্যু করবেন।

(ঙ) উপরে বর্ণিত ব্যবস্থা গ্রহণ সাপেক্ষে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সম্মতিক্রমে গার্ড পরিবর্তন করা যাবে।

 

                                                                                         প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান

 

                                                                                                         সাধারণ যোগ্যতা

 

(ক) সরকারি/ আধাসরকারি/ স্বায়ত্বশাসিত/ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বা অংশীদারী প্রতিষ্ঠান/ লিমিটেড কোম্পানি/ কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের পক্ষে নির্বাহী প্রধানের অনুকূলে আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স প্রদান করা যাবে।

(খ) ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের মালিকের আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানের মালিক হিসেবে উল্লেখ করে তার নামে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স ইস্যু করা যাবে ।

(গ) আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্সের জন্যে আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মেমোরেন্ডাম অব এসোসিয়েশন এবং আর্টিকেল অব এসোসিয়েশন আবেদনের সাথে জমা দিতে হবে। প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির ক্ষেত্রে সকল পরিচালকের জীবন বৃত্তান্ত আবেদনের সাথে দাখিল করতে হবে।

(ঘ) বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা অংশীদারী প্রতিষ্ঠান/লিমিটেড কোম্পানি/কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ন্যূনতম ১০ (দশ) কোটি টাকা হতে হবে।

 

                                                                                          প্রতিষ্ঠানের আগ্নেয়াস্ত্রের সীমা

 

(ক) প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় দুইটি ১২ বোর শটগানের লাইসেন্স দেয়া যেতে পারে। তবে প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তার গুরুত্ব, নগদ অর্থ লেনদেনের পরিমাণ, ভৌগলিক অবস্থান, প্রতিষ্ঠানের ধরণ এবং বার্ষিক ক্রমবর্ধমান আয় বিবেচনাপূর্বক শটগানের লাইসেন্সের সংখ্যা বাড়ানো যেতে পারে। কিন্তু এ লাইসেন্সের সংখ্যা কোন ভাবেই ৬ (ছয়) টির বেশী হবে না।

(খ) সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে উপ অনুচ্ছেদ ‘ক’ এ বর্ণিত আগ্নেয়াস্ত্রের সর্বোচ্চ সীমা প্রযোজ্য হবে না। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয়তা ও যৌক্তিকতার প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের ভিত্তিতে আগ্নেয়াস্ত্রের সংখ্যার সর্বোচ্চ সীমা শিথিলযোগ্য হবে।

(গ) আগ্নেয়াস্ত্রের সংখ্যার এই হ্রাস/বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সুপারিশ প্রদানের পূর্বে সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পুলিশের বিশেষ শাখার মাধ্যমে তদন্তপূর্বক চাহিত আগ্নেয়াস্ত্রের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে নিশ্চিত হবেন।

 

                                                                       আবেদনকারীর কার্যক্রম ও আবেদনের স্থান

 

সরকারি/আধাসরকারি/স্বায়ত্বশাসিত/বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের নাম, ঠিকানা, যাচিত অস্ত্রের ধরণ, বর্তমানে বিদ্যমান নিষিদ্ধ বা অনিষিদ্ধ বোরের আগ্নেয়াস্ত্রের সংখ্যা,গার্ডের জীবন বৃত্তান্ত ও পুলিশ প্রতিবেদন,অস্ত্র প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত গার্ড/কর্মচারীর সংখ্যা এবং প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত সনদপত্র প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক অনুমোদনসহ আবেদনপত্র সরকারের বিবেচনার জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয়ে দাখিল করতে হবে।

 

                                                                                                 ইস্যুকারী কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম

 

(ক) নির্ধারিত ফরমে (পরিশিষ্ট-৯) আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্সের জন্য আবেদনকারীর আবেদন প্রাপ্তির পর জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নির্ধারিত ফরমে (পরিশিষ্ট-১০) আবেদনকারী কর্তৃক প্রদত্ত গার্ডের বিষয়ে প্রাক পরিচয়সহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অস্ত্রের প্রয়োজনীয়তা এবং লাইসেন্স প্রদান করা হলে ব্যবহার ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ঝুঁকি রয়েছে কি না সে বিষয়ে সন্তোষজনক পুলিশ প্রতিবেদন সংগ্রহ করবেন।

(খ) জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবেদনকারী এবং আবেদনে বর্ণিত গার্ডের সাক্ষাতকার গ্রহণ করবেন।এ সময় তিনি গার্ডদের শারীরিক ও মানসিক সামথ্য,আবেদনকৃত অস্ত্র ও এর রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়ে তাদের জ্ঞান সম্পর্কে নিশ্চিত হবেন। সাক্ষাতকার গ্রহণের সময় তিনি প্রয়োজনে পুলিশ সুপার এবং সিভিল সার্জনের প্রতিনিধির সহায়তা নিতে পারেন। তাছাড়া তিনি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অস্ত্রের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে নির্ধারিত ফরমে (পরিশিষ্ট-১১) মন্তব্য লিপিবদ্ধ করবেন।

(গ) আবেদনকারীর অস্ত্রের লাইসেন্স প্রাপ্তির বিষয়টি যাচাই বাছাইপূর্বক সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এর নিকট যোগ্য বিবেচিত হলে সুপারিশ সহকারে প্রস্তাবটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করবেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনাপত্তি জ্ঞাপন করা হলে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লাইসেন্স ইস্যু করবেন।

 

                                                                         সকল পর্যায়ে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সাধারণ বিষয়সমূহ

                                                                                                          লাইসেন্স বিষয়ে আবেদনকারীর জ্ঞাতব্য

 

আবেদনকারী অস্ত্র ও গোলাবারুদ সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় নিয়মাবলী লাইসেন্স গ্রহণের সময় অবশ্যই জ্ঞাত হবেন এবং এই মর্মে নির্ধারিত ফরমে (পরিশিষ্ট- ১২) একটি প্রত্যয়নপত্র সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর দাখিল করবেন।

 

                                                                                         অস্ত্র লাইসেন্সে লিপিবদ্ধ করা

 

(ক) স্থানীয়ভাবে ক্রয়কৃত আগ্নেয়াস্ত্র ক্রয়ের তারিখ হতে ৫ (পাঁচ) কর্মদিবসের মধ্যে লাইসেন্স ইস্যুকারী সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের দপ্তরে লাইসেন্সে লিপিবদ্ধ করাতে হবে।

(খ) আমদানিকৃত অস্ত্র শুল্ক কর্তৃপক্ষের নিকট হতে ছাড় পাওয়ার পরে ৫ কর্মদিবসের মধ্যে লাইসেন্স ইস্যুকারী সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের দপ্তরে লাইসেন্সে লিপিবদ্ধ করাতে হবে।

(গ) যথাসময়ে লিপিবদ্ধ করতে ব্যর্থ হলে এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ব্যর্থতার কারণ সম্পর্কে সন্তুষ্ট হলে প্রথম ১৫ দিনের জন্য প্রতিদিন ২০০/-(দুইশত) টাকা হারে এবং এর পরবর্তীতে প্রতিদিনের বিলম্বের জন্য দৈনিক ৫০০/-(পাঁচশত) টাকা হারে জরিমানা আদায় করে অস্ত্র লাইসেন্সে লিপিবদ্ধ করা যাবে। তবে ১(এক ) মাসের মধ্যে অস্ত্র লাইসেন্সে লিপিবদ্ধ করতে ব্যর্থ হলে লাইসেন্স বাতিল এবং অস্ত্র বাজেয়াপ্ত করা হবে।

 

                                                                           ডুপ্লিকেট লাইসেন্স প্রদান/ লাইসেন্স বাতিল /পরিবর্তন সংক্রান্ত

 

(ক) আগ্নেয়াস্ত্রের মূল লাইসেন্স হারিয়ে গেলে, নষ্ট হলে, পাঠ অযোগ্য হলে অথবা নবায়নের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষর এবং সিল মোহরের জায়গা না থাকলে নির্ধারিত ফি প্রদান সাপেক্ষে ডুপ্লিকেট লাইসেন্স সংশ্লিষ্ট ইস্যুকারী জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অফিস থেকে সংগ্রহ করা যাবে।

(খ) লাইসেন্স হারিয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট থানায় জিডি এন্ট্রি করে জিডি’র কপিসহ আবেদন করতে হবে।

(গ) ডুপ্লিকেট লাইসেন্স ইস্যু করলে পূর্বের লাইসেন্স বাতিলপূর্বক তা ডাটাবেসে এন্ট্রিকরতঃ বিনষ্ট করতে হবে।

(ঘ) আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রি, হস্তান্তর, স্বত্বত্যাগপূর্বক জমাদান করলে উক্ত আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল হয়ে যাবে। (ঙ) আগ্নেয়াস্ত্র নষ্ট এবং মেরামত অযোগ্য হলে লাইসেন্সধারী তার আগ্নেয়াস্ত্রটি লাইসেন্স ইস্যুকারী সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট জমা দিবেন। লাইসেন্স ইস্যুকারী জেলা ম্যাজিস্ট্রেট একই সঙ্গে আগ্নেয়াস্ত্রটির লাইসেন্স বাতিল করে আগ্নেয়াস্ত্রটি বাজেয়াপ্ত করবেন।

(চ) এছাড়া অস্ত্র ব্যবহারের শর্তাদি যথাযথভাবে প্রতিপালন না করলে বা অন্য কোন যৌক্তিক কারণে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কিংবা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যে কোন লাইসেন্স বাতিল করতে পারবেন।

(ছ) বাতিলকৃত লাইসেন্স পুনর্বহাল করা যাবে না। তবে অনুচ্ছেদ ১৯ (চ) ব্যতীত অন্য কোন কারণে বাতিল হলে পুনরায় আবেদনের প্রেক্ষিতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবেদনকারীর নামে নতুন লাইসেন্স ইস্যু করতে পারবেন।

                                                                                          লাইসেন্স বাতিল হলে আগ্নেয়াস্ত্র বিষয়ে কার্যক্রম

 

অনুচ্ছেদ ১৯ (চ) অনুযায়ী লাইসেন্স বাতিল করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বাতিলকৃত লাইসেন্স ও সংশ্লিষ্ট অস্ত্র তিন দিনের মধ্যে নিকটস্থ থানায় জমা প্রদান করবেন। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ বিষয়টি অনতিবিলম্বে সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে অবহিত করবেন এবং অস্ত্র থানায় সংরক্ষণ করবেন। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আগ্নেয়াস্ত্র সম্পর্কিত পরবর্তী নির্দেশনা প্রদান করবেন।

                                                                                     অকেজো ও মেরামত অযোগ্য আগ্নেয়াস্ত্রের বিষয়ে কার্যক্রম

 

(ক) আগ্নেয়াস্ত্র অকেজো ও মেরামত অযোগ্য হলে লাইসেন্সধারী তার আগ্নেয়াস্ত্রটি লাইসেন্স ইস্যুকারী সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট জমা দিবেন।

(খ) জেলা ম্যাজিস্ট্রেট একই সঙ্গে আগ্নেয়াস্ত্রটির লাইসেন্স বাতিল করে আগ্নেয়াস্ত্রটি বাজেয়াপ্ত করবেন এবং ঐ ব্যক্তির আবেদনের প্রেক্ষিতে আবেদনকারীর নামে নতুন লাইসেন্স ইস্যু করতে পারবেন।

(গ) আগ্নেয়াস্ত্রের ডিলারগণের হেফাজতে থাকা অকেজো ও মেরামত অযোগ্য আগ্নেয়াস্ত্রও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট জমা দিতে হবে।

(ঘ) জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অকেজো ও মেরামত অযোগ্য বাজেয়াপ্তকৃত আগ্নেয়াস্ত্রের হিসাব সংরক্ষণপূর্বক বিনষ্টের জন্য বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানায় প্রেরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

 

                                                                                  লাইসেন্স এর ধরণ / আগ্নেয়াস্ত্র পরিবর্তন

 

(ক) আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্সে লিপিবদ্ধ করার পর ৫ (পাঁচ) বছর সমাপ্ত হওয়ার পূর্বে লাইসেন্স এর ধরণ/প্রকার বা আগ্নেয়াস্ত্র পরিবর্তন করা যাবে না। ৫ (পাঁচ) বছর সমাপ্ত হওয়ার পূর্বে আগ্নেয়াস্ত্র অকেজো ও মেরামত অযোগ্য হলে অনুচ্ছেদ ২১ অনুযায়ী কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে এবং মেরামতযোগ্য হলে মেরামতের মাধ্যমে ব্যবহার করতে হবে।

(খ) পাঁচ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স এর ধরণ/প্রকার বা আগ্নেয়াস্ত্র পরিবর্তন করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এর নিকট যথা নিয়মে আবেদন করতে হবে।

(গ) আগ্নেয়াস্ত্রের ধরণ/প্রকার পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা নিশ্চিত হলে শটগান/রাইফেল এর ক্ষেত্রে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পরিবর্তনের অনুমোদনসহ লাইসেন্স ইস্যু করবেন এবং পিস্তল/রিভলবার এর ক্ষেত্রে আবেদনটি সুপারিশসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তি গ্রহণের জন্য প্রেরণ করবেন।

(ঘ) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তি প্রাপ্তি সাপেক্ষে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিস্তল/রিভলবার এর ধরণ/প্রকার পরিবর্তনকরতঃ লাইসেন্স ইস্যু করবেন।

(ঙ) অনুচ্ছেদ (গ) ও (ঘ) উভয় ক্ষেত্রে পূর্বতন লাইসেন্স বাতিলপূর্বক নতুন লাইসেন্স ইস্যু করতে হবে। (চ)আগ্নেয়াস্ত্রের ধরণ পরিবর্তনের বিষয়টি নতুন লাইসেন্সে লিপিবদ্ধ করতে হবে এবং ডাটাবেস এ অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

(ছ) যদি কোন ব্যক্তি ৫ (পাঁচ) বছরের অধিক পুরাতন যে কোন প্রকারের অস্ত্র বিক্রি করে তার পরিবর্তে নতুন অস্ত্র ক্রয় করতে না চান এবং লাইসেন্স বাতিলের আবেদন করেন সেক্ষেত্রে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তার লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।

 

                                                                  ওয়ারিশ সূত্রে আগ্নেয়াস্ত্র প্রাপ্তির ক্ষেত্রে

 

(ক) বার্ধক্যজনিত বা শারীরিক অক্ষমতাজনিত কারণে ওয়ারিশের অনুকূলে অস্ত্র হস্তান্তরে ইচ্ছুক লাইসেন্সধারী অস্ত্রের ধরণ অনুযায়ী যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতিক্রমে অস্ত্র হস্তান্তর করতে পারবেন।

(খ) বার্ধক্যজনিত বলতে ৭০ বছরের অধিক বয়সের ব্যক্তিকে বুঝাবে। শারীরিক অক্ষমতার ক্ষেত্রে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ব্যক্তিগতভাবে লাইসেন্সধারীর সাক্ষাৎকার গ্রহণকরত: অক্ষমতার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।

(গ) আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সধারীর মৃত্যুর ১৫ দিনের মধ্যে তার ওয়ারিশগণ অথবা কোন বৈধ ওয়ারিশ না থাকলে তার নিকটাত্মীয়গণ (আইন মোতাবেক সম্পত্তির অংশীদার) নিকটস্থ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট অস্ত্র ও গোলাবারুদ জমা দিবেন অন্যথায় জেলা ম্যাজিস্ট্রেট যথানিয়মে অস্ত্র ও গোলাবারুদ বাজেয়াপ্ত করবেন।

(ঘ) মৃত্যুজনিত কারণে আইনানুগ ওয়ারিশের অনুকূলে অস্ত্রের মালিকানা পরিবর্তন করা যাবে।

(ঙ) ওয়ারিশসূত্রে লাইসেন্স প্রাপ্তির জন্য আবেদনকারীকে অবশ্যই আয়কর প্রদান ব্যতীত লাইসেন্স প্রাপ্তির অন্যান্য যোগ্যতা থাকতে হবে।

(চ) যোগ্যতা না থাকলে ওয়ারিশগণ উক্ত অস্ত্র যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে আগ্নেয়াস্ত্রের বৈধ ডিলার বা বৈধ লাইসেন্সধারীর কাছে বিক্রি বা সরকারি মালখানায় স্বত্ত্বত্যাগপূর্বক জমা প্রদান করবেন।

(ছ) ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত আগ্নেয়াস্ত্র অকেজো হলে বা বিক্রি করে নতুন অস্ত্র ক্রয়ের ক্ষেত্রে লাইসেন্স গ্রহণ করতে হলে আবেদনকারীকে আয়করের শর্তাবলীসহ অন্যান্য শর্তাবলী পূরণ করতে হবে।

                                                                                                              ঠিকানা পরিবর্তন

 

(ক) লাইসেন্সধারীর স্থায়ী ঠিকানার পরিবর্তন হলে সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট,পূর্বের ঠিকানার থানা ও বর্তমান ঠিকানার থানাকে অবিলম্বে লিখিতভাবে অবহিত করতে হবে।

(খ) অস্থায়ী ঠিকানার পরিবর্তন হলে পূর্বের ঠিকানার থানা এবং বর্তমান ঠিকানার থানাকে অবিলম্বে লিখিতভাবে অবহিত করতে হবে।

 

                                                                                               আগ্নেয়াস্ত্র বহন/ব্যবহার

 

(ক) কোন ব্যক্তি স্বীয় লাইসেন্সে এন্ট্রিকৃত অস্ত্র আত্মরক্ষার নিমিত্ত নিজে বহন/ব্যবহার করতে পারবেন। তবে অন্যের ভীতি/বিরক্তি উদ্রেক করতে পারে এরুপভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করা যাবে না।

(খ) আর্থিক প্রতিষ্ঠান অথবা অন্য কোন প্রতিষ্ঠানের গার্ড ইউনিফর্ম ছাড়া প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করতে পারবে না।

(গ) আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সধারী কোন ব্যক্তি নিজ ব্যতীত অন্য কোন ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বা সম্পত্তি রক্ষার জন্য অস্ত্রধারী প্রহরী হিসেবে নিয়োজিত হতে পারবেন না। সে ক্ষেত্রে তার অস্ত্রের লাইসেন্স তাৎক্ষণিকভাবে বাতিলযোগ্য হবে।

(ঘ) একইভাবে কোন আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সধারী ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে অন্য ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের সম্পত্তি রক্ষার জন্য অস্ত্রধারী প্রহরী হিসেবে নিয়োজিত করা যাবে না।

(ঙ) প্রতিষ্ঠানের নামে ইস্যু করা আগ্নেয়াস্ত্র সে প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ব্যতীত অন্য কোন উদ্দেশ্যে, প্রতিষ্ঠানের মালিক কিংবা কর্মরত কোন ব্যক্তির ব্যক্তিগত সম্পত্তি বা ব্যক্তির নিরাপত্তার কাজে ব্যবহার করা যাবে না।

(চ) যে প্রতিষ্ঠানের নামে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স ইস্যু করা হবে সে প্রতিষ্ঠান ব্যতীত অন্য কোনপ্রতিষ্ঠান/অধীনস্থ/সহযোগী প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির নিরাপত্তা কিংবা অন্য কারো স্থাবর এবং অস্থাবর সম্পত্তিরক্ষা করার কাজে উক্ত আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা যাবে না।

(ছ) আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রাপ্ত কোন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ হলে বা বিলুপ্ত হয়ে গেলে প্রতিষ্ঠানটির স্বত্ত্বাধিকারী/নির্বাহী প্রধান নিকটস্থ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট আগ্নেয়াস্ত্র জমা দিবেন।

(জ )  প্রবাসী বাংলাদেশী/বাংলাদেশী দ্বৈত নাগরিককে বিদেশে অবস্থানকালে আবশ্যিকভাবে লাইসেন্সকৃত অস্ত্র সংশ্লিষ্ট থানায় বা সেফ কিপিং লাইসেন্স প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানে জমা রাখতে হবে।

(ঝ) উপরে বর্ণিত যে কোন শর্ত ভংগের কারণে লাইসেন্স বাতিলযোগ্য হবে।

 

                                                                                                       ডিলিং লাইসেন্স

 

(ক) ডিলিং লাইসেন্সের আবেদন করতে হলে প্রতিষ্ঠানের মালিককে ব্যক্তি পর্যায়ে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স। পাওয়ার সাধারণ যোগ্যতা সম্পন্ন হতে হবে।

(খ) ডিলিং লাইসেন্সের আবেদনকারীকে বিগত ৩ (তিন) বছরে ধারাবাহিকভাবে ব্যক্তি শ্রেণির আয়করদাতা হিসেবে ৫(পাঁচ) লক্ষ টাকা আয়কর প্রদান করতে হবে।

 

                                                                                     অস্ত্র ও গোলাবারুদ আমদানি

 

(ক) কোন আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সধারী ব্যক্তি/ ডিলার / লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান বিদেশ হতে অস্ত্র ও কার্তুজ আমদানি করতে পারবেন। বিদেশ হতে অস্ত্র ও কার্তুজ আমদানির ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও আমদানি রপ্তানি নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন নিতে হবে।

(খ) ব্যক্তি/ ডিলার/ রাইফেল/ শুটিং ক্লাব/ টিসিবি এর ক্ষেত্রে বিদেশ হতে অস্ত্র ও কার্তুজের জন্য আবেদনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দপ্তর প্রধানের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।

(গ) রাইফেল/ শূটিং ক্লাব/ বাংলাদেশ শূটিং স্পোর্ট ফেডারেশন কর্তৃক শূটিং কার্যে ব্যবহৃত অস্ত্র ব্যতীত অন্য কোন অস্ত্র আমদানি করা যাবে না।

(ঘ) কোন প্রকার এয়ারগান আমদানি করা যাবে না। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমতিক্রমে ক্রীড়া সরঞ্জাম হিসেবে শূটিং কার্যে ব্যবহারের জন্য আমদানি করা যাবে।

(ঙ) আগ্নেয়াস্ত্র ডিলার/ রাইফেল/ শূটিং ক্লাব/ বাংলাদেশ শূটিং স্পোর্ট ফেডারেশন কর্তৃক বিদেশ হতে অস্ত্র এবং কার্তুজ আমদানির অনুমতি বিবেচনার জন্য আবশ্যিকভাবে গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই  /এসবি) প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সরকার কর্তৃক প্রতিটি আবেদনের ক্ষেত্রে পৃথকভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। অনুমতি প্রদানের ক্ষেত্রে উক্ত রাইফেল/ শ্যুটিং ক্লাব/ বাংলাদেশ শ্যুটিং স্পোর্ট ফেডারেশনের প্রয়োজনীয়তা,বর্তমান মজুত,ডিলারের বার্ষিক গড় বিক্রির পরিমাণ, সংরক্ষণ সক্ষমতা ইত্যাদি বিবেচনা করা হবে।

(চ) বিদেশ হতে আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ আমদানির অনুমতির কার্যকারিতা পত্র জারির তারিখ হতে সর্বোচ্চ

২ (দুই) বছর হবে।

(ছ) টিসিবি, রাইফেল/ শূটিং ক্লাব/ বাংলাদেশ শূটিং স্পোর্ট ফেডারেশন এবং অস্ত্র ডিলারগণ কর্তৃক অস্ত্র ও গোলাবারুদ আমদানির ১৫ দিনের মধ্যে এ সংক্রান্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে লিখিতভাবে অবহিত করতে হবে।

(জ )টিসিবি,রাইফেল/শূটিং ক্লাব,বাংলাদেশ শূটিং স্পোর্ট ফেডারেশন এবং অস্ত্র ডিলারগণ কর্তৃক অস্ত্র আমদানির ক্ষেত্রে আমদানিকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদসমূহ স্থল, সমুদ্র বা বিমান বন্দরে আসার পর সংশ্লিষ্ট আমদানিকারক কর্তৃক কাস্টমস্ কর্তৃপক্ষ বরাবর আবেদনের ভিত্তিতে আবেদনের সাত কর্মদিবসের মধ্যে পুলিশ/বিজিবি এবং কাস্টমস্ প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত কমিটি কর্তৃক সরেজমিনে অস্ত্রের ধরণ যাচাইপূর্বক প্রত্যয়নপত্র প্রদান সাপেক্ষে অস্ত্র ও গোলাবারুদসমূহ ছাড় করতে হবে।

(ঝ)কোন সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তা The Custom Act, ১৯৬৯ এর তফসিল ১ সেকশন ১৯ অনুযায়ী একবার রেয়াতি শুল্কে অস্ত্র আমদানি করার পর তা বিক্রয়/হস্তান্তর করলে পুনরায় শুল্ক রেয়াতের সুবিধা প্রাপ্ত হবেন না।

                                                                                                      অস্ত্র ক্রয় বিক্রয় ও মেরামত

 

(ক) কোন আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্সে লিপিবদ্ধ করার ৫ বছরের মধ্যে বিক্রি বা হস্তান্তর করা যাবে না। তবে ওয়ারিশসূত্রে প্রাপ্ত আগ্নেয়াস্ত্রের ক্ষেত্রে পূর্বসূরি কর্তৃক আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্সে লিপিবদ্ধ করার তারিখ হতে সময় গণনা করা হবে।

(খ)লাইসেন্সে লিপিবদ্ধ করার ৫ বছর অতিক্রান্ত হবার পর কোন আগ্নেয়াস্ত্র ত্রুটিপূর্ণ হলে, উক্ত অস্ত্র বিক্রি/হস্তান্তর করা যাবে। এ ক্ষেত্রে লাইসেন্স প্রাপ্ত অস্ত্র মেরামতকারী প্রতিষ্ঠানের প্রত্যয়নপত্র এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেট-এর সুপারিশের ভিত্তিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমতির প্রয়োজন হবে। লং ব্যারেল আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্সের ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমতির প্রয়োজন হবে না। এ ক্ষেত্রে পূর্বের লাইসেন্স বাতিল সাপেক্ষে তৎপরিবর্তে নতুন লাইসেন্স প্রদান করা যাবে।

(গ) নিবন্ধিত শূটারগণ তাদের আগ্নেয়াস্ত্র শুধুমাত্র অন্য নিবন্ধিত শূটার/ রাইফেল/ শূটিং ক্লাব, বাংলাদেশ শ্যটিং স্পোর্ট ফেডারেশন এর নিকট বিক্রি হস্তান্তর করতে পারবেন।

(ঘ)আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্সে লিপিবদ্ধ করার ৫ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পূর্বে ত্রুটিপূর্ণ কিন্তু মেরামতযোগ্য না হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আবেদনের প্রেক্ষিতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আগ্নেয়াস্ত্রটি বাজেয়াপ্ত করবেন। এ ক্ষেত্রে উক্ত আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল বলে গণ্য হবে। বাতিলকৃত লাইসেন্স পুনর্বহাল করা যাবে না। তবেআবেদনকারীর আবেদনের প্রেক্ষিতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নতুন লাইসেন্স ইস্যু করতে পারবেন।

(ঙ) টিসিবি, রাইফেল / শূটিং ক্লাব, বাংলাদেশ শুটিং স্পোর্ট ফেডারেশন এবং অস্ত্র ডিলারগণ আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রির সময় যে লাইসেন্সের অনুকূলে অস্ত্র বিক্রি করা হয়েছে তার ফটোকপি আবশ্যিকভাবে সংরক্ষণ করবেন।

                                                                                         গোলাবারুদ ক্রয়-বিক্রয়

 

(ক) লং ব্যারেল (বন্দুক/শটগান/রাইফেল) এবং শর্ট ব্যারেল (পিস্তল/রিভলবার) আগ্নেয়াস্ত্রের ক্ষেত্রে প্রতি বছর সর্বোচ্চ যথাক্রমে ১০০টি গুলি ও ৫০টি গুলি ক্রয়ের অনুমতি দেওয়া যাবে । ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ব্যতীত অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের নামে ইস্যুকৃত প্রতিটি অস্ত্রের বিপরীতে বার্ষিক সর্বোচ্চ ৫০ টি গুলি ক্রয় করা যাবে।

(খ) শুধু আত্মরক্ষা ও টার্গেট প্র্যাকটিসের উদ্দেশ্যে গুলি ব্যবহার করা যাবে। আত্মরক্ষার ক্ষেত্রে গুলি ব্যবহারের অব্যবহিত পরেই সংশ্লিষ্ট থানায় জিডি করতে হবে। টার্গেট প্র্যাকটিসের ক্ষেত্রে সরকারের অনুমোদিত ফায়ারিং রেঞ্জ এবং বাংলাদেশ শূটিং স্পোর্ট ফেডারেশনের নির্দিষ্ট অনুশীলন কেন্দ্র ছাড়া টার্গেট প্র্যাকটিস করা যাবে না।

(গ) টার্গেট প্র্যাকটিসে গুলি ব্যবহারের বিষয়ে উক্ত ফায়ারিং রেঞ্জ বা বাংলাদেশ শূটিং স্পোর্ট ফেডারেশনের প্রত্যয়নপত্র গ্রহণ করতে হবে। পরবর্তীতে নতুন গুলি ক্রয়ের ক্ষেত্রে পূর্বে ব্যবহৃত গোলাবারুদের প্রত্যয়ন পত্র এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে জিডি এর অনুলিপিসহ ব্যবহৃত গুলির হিসাব জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট জমা দিতে হবে। (ঘ) জেলা ম্যাজিস্ট্রেট যাচাইয়ান্তে ব্যবহৃত গুলির সমসংখ্যাক গুলি ক্রয়ের অনুমতি প্রদান করবেন। জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের প্রত্যয়নপত্র ব্যতীত কোন ডিলার আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্সধারীর নিকট গুলি বিক্রি করতে পারবে।এ ক্ষেত্রে ডিলারগণ জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের প্রত্যয়নপত্র সংরক্ষণ করবেন। নিবন্ধিত শূটারদের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ শূটিং স্পোর্টফেডারেশনের অনুমোদনক্রমে প্রয়োজনীয় সংখ্যক গুলি সংগ্রহ করতে হবে ।

(চ)টিসিবি,রাইফেল /শূটিং ক্লাব,বাংলাদেশ শূটিং স্পোর্ট ফেডারেশন এবং অস্ত্র ডিলারগণ আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রির সময় যে লাইসেন্সের অনুকূলে গুলি বিক্রি করা হবে তার ফটোকপি আবশ্যিকভাবে সংরক্ষণ করবে।

                                                                                      লাইসেন্স ও নবায়ন ফি

 

(ক) নিম্নোক্তভাবে প্রতি আগ্নেয়াস্ত্রের জন্য লাইসেন্স ফি নির্ধারিত হবে ?

৩০.ক.১

ব্যক্তি পর্যায়ে

লাইসেন্সের ইস্যু ফি :পিস্তল/রিভলবার :৩০,০০০/-(ত্রিশ হাজার) টাকা।

       বন্দুক/ শটগান/ রাইফেল : ২০,০০০/- (বিশ হাজার) টাকা লাইসেন্সের নবায়ন ফি: পিস্তল/ রিভলবার : ১০,০০০/- (দশ হাজার) টাকা |     বন্দুক/ শটগান/ রাইফেল : ৫,০০০/- (পাঁচ হাজার) টাকা

৩০.ক.২

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা

ব্যাংক পর্যায়ে

লাইসেন্স ইস্যু ফি : লং ব্যারেল : ২০,০০০/- (বিশ হাজার) টাকা

লাইসেন্স নবায়ন ফি: লং ব্যারেল : ৫,০০০/- (পাঁচ) হাজার টাকা।

৩০.ক.৩

 

প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে

লাইসেন্স ইস্যু ফি : লং ব্যারেল : ৫০,০০০/- (পঞ্চাশ হাজার) টাকা

লাইসেন্স নবায়ন ফি : লং ব্যারেল : ১০,০০০/- (দশ হাজার) টাকা।

৩০.ক.৪

ডিলার এবং মেরামতকারী প্রতিষ্ঠান

লাইসেন্স ইস্যু ফি : ১,০০,০০০/- (এক লক্ষ) টাকা

লাইসেন্স নবায়ন ফি : ২০,০০০/- (বিশ হাজার) টাকা

৩০.ক.৫

সেফ কিপিং

লাইসেন্স ফি : ২০,০০০/- (বিশ হাজার) টাকা 

লাইসেন্স নবায়ন ফি : ৫,০০০/- (পাঁচ হাজার) টাকা

 

(খ) কর্মরত সামরিক কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে Arms Act Manual ১৯২৪ এর চাপ্টার ৩ সেকশন ৬ এর ৪৫ এবং ৪৬ (সি) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী লাইসেন্স ফি এবং নবায়ন ফি এর বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে।

(গ) সনদপ্রাপ্ত (সরকারি গেজেটে বিজ্ঞাপিত) মুক্তিযোদ্ধা ও জাতীয় বেতন স্কেলের ৬ষ্ঠ ও তদূর্ধ্ব গ্রেডভুক্ত। চাকুরীরত/ অবসরপ্রাপ্ত সরকারি ক্যাডার সার্ভিস কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে পিস্তল/রিভলবার/শটগান/রাইফেল আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স ফি এবং নবায়ন ফি প্রযোজ্য হবে না।

 

                                                                                            নবায়ন বিষয়ক বিধান

 

(ক) প্রতিবছর ৩১ ডিসেম্বর তারিখের মধ্যে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স নবায়ন করতে হবে।

(খ) ৩১ ডিসেম্বরের পর জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নবায়নের সময়সীমা সর্বোচ্চ এক মাস পর্যন্ত বর্ধিত করতে পারবেন।

(গ) নির্ধারিত বর্ধিত সময়ের মধ্যে লাইসেন্স নবায়ন করা না হলে, জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট নবায়ন না করার সন্তোষজনক ব্যাখ্যাসহ আবেদন করতে হবে।

(ঘ) জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক আবেদন সন্তোষজনক বিবেচিত হলে পূর্ণ লাইসেন্স ইস্যু ফি এর সমপরিমাণ অর্থ আদায়পূর্বক লাইসেন্স নবায়ন করবেন। সন্তোষজনক বিবেচিত না হলে তিনি নবায়ন না করে লাইসেন্স বাতিলপূর্বক অস্ত্রটি বাজেয়াপ্ত করতে পারবেন।

(ঙ) ধারাবাহিকভাবে ০৫(পাঁচ) বছরের অধিককাল আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স নবায়ন না করা হলে, নবায়নের কোন আবেদন বিবেচিত হবে না। সেক্ষেত্রে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লাইসেন্স বাতিলপূর্বক আগ্নেয়াস্ত্রটি বাজেয়াপ্ত করবেন।

(চ) জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবরে লিখিতভাবে সন্তোষজনক কারণ ব্যাখ্যা করে আবেদন জানালে কোন অস্ত্রের লাইসেন্স (ডিলিং/রিপিয়ারিং/সেফ কিপিং লাইসেন্স ব্যতীত) যে কোন জেলার জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয়ে নবায়ন করা যেতে পারে। তবে নবায়নকারী কর্তৃপক্ষ আবশ্যিকভাবে নবায়নকৃত লাইসেন্সসমূহের নবায়নের তথ্য অবিলম্বে লাইসেন্স ইস্যুকারী কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন এবং উভয় জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নবায়নের তথ্য ডাটা বেইজে এন্ট্রি করবেন। আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্সধারী ব্যক্তিগতভাবেও নবায়নের তথ্য লাইসেন্স ইস্যুকারী জেলা ম্যাজিস্টেটকে অবিলম্বে অবহিত করবেন।

(ছ) জেলা ম্যাজিস্ট্রেট প্রতিবার লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রে আবশ্যিকভাবে লাইসেন্সধারীর সাক্ষাতকার নিবেন এবং অস্ত্র ব্যবহারে তার শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা নিশ্চিত হয়ে নবায়ন করবেন। তবে, লাইসেন্সধারী ৮০ বছরের উধ্বে হলে লাইসেন্স নবায়নযোগ্য হবে না।

 

                                                                                       বিশেষ প্রাধিকার

 

১. নিম্নবর্ণিত পদাধিকারী ব্যক্তিবর্গের লাইসেন্স প্রাপ্তির জন্য নির্ধারিত আয়কর পরিশােধে বাধ্যবাধকতা থাকবে না:

ক) স্পীকার, ডেপুটি স্পীকার, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী ও সমপদমর্যাদা সম্পন্ন ব্যক্তিবর্গ।

খ) সংসদ সদস্য।

গ) সিটি কর্পোরেশনের মেয়র/’ক’ শ্রেণির পৌরসভার মেয়র।

ঘ) জেলা পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান।

ঙ) বিচারপতিবৃন্দ।

চ) সরকারি গেজেটে বিজ্ঞাপিত সনদ প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা।

ছ) জাতীয় বেতন স্কেলের ৬ষ্ঠ ও তদূর্ধ্ব গ্রেডভুক্ত কর্মরত/অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা।

জ) সামরিক বাহিনীতে কমিশন্ড প্রাপ্ত প্রথম শ্রেণির কর্মরত/অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।

ঝ) চলমান জাতীয় দলের শূটার (যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রত্যায়িত হতে হবে)।

ঞ) শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, বিজ্ঞান, গবেষণা, ইত্যাদি ক্ষেত্রে জাতীয় পর্যায়ে অবদানের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত

বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদিত কোন বিশিষ্ট ব্যক্তি। |

২. উপানুচ্ছেদ ৩২(১) এর ক, খ, গ, ঘ ও ঝ বর্ণিত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বয়সের বাধ্যবাধকতা থাকবে না।

 

 

                                                                                                        আগ্নেয়াস্ত্র এর নিরাপত্তা

 

(ক) সরকার প্রয়োজনমতে সময়ে সময়ে যে কোন আগ্নেয়াস্ত্র সংশ্লিষ্ট জেলা মালখানা/থানা/সেফ কিপিং লাইসেন্স প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানে জমা প্রদানের নির্দেশ দিতে পারবে।

(খ) বিদেশে অবস্থানকালীন সময়ে লাইসেন্সকৃত অস্ত্র সংশ্লিষ্ট জেলা মালখানা/থানা/ সেফ কিপিং লাইসেন্স প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানে জমা রাখতে হবে।

(গ) আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রাপ্ত কোন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ হলে বা বিলুপ্ত হয়ে গেলে প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী প্রধান নিকটস্থ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট আগ্নেয়াস্ত্র জমা দিবেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে ইস্যুকারী কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন।

 

                                                                                                            পরিদর্শন

 

(ক) প্রতি ছয় মাস অন্তর জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং পুলিশ কর্তৃপক্ষ, টিসিবি, রাইফেল / শূটিং ক্লাব, বাংলাদেশ শূটিং স্পোর্ট ফেডারেশন এবং অস্ত্র ডিলারগণ কর্তৃক আমদানিকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদসমূহের মজুদ এবং ক্রয় বিক্রয়ের হিসাব সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন এবং উক্ত পরিদর্শন প্রতিবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করবেন।

(খ) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত যে কোন কর্মকর্তা যে কোন সময় যে কোন অস্ত্র আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এবং অস্ত্র ও গোলাবারুদ মজুদকৃত স্থান সরেজমিনে পরিদর্শন করতে পারবেন।

 

                                                            আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স বাতিল বা বাজেয়াপ্তকৃত অস্ত্র সম্পর্কিত বিধান

 

(ক) আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রাপ্তির ৫ (পাঁচ) বছরের মধ্যে অস্ত্র ক্রয় না করলে লাইসেন্সটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল বলে গণ্য হবে। বাতিলকৃত লাইসেন্স পুনর্বহাল করা যাবে না।

(খ) আগ্নেয়াস্ত্র বিধিমালা ১৯২৪ এবং এই নীতিমালার বিধানসমূহ ভঙ্গ করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স বাতিলপূর্বক আগ্নেয়াস্ত্র বাজেয়াপ্ত করা হবে।

(গ) সরকার প্রয়োজন মনে করলে যে কোন সময় যে কোন ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করতে পারবেন এবং লাইসেন্সভুক্ত অস্ত্র বাজেয়াপ্ত করতে পারবে।

(ঘ) বাজেয়াপ্তকৃত অস্ত্র প্রাথমিকভাবে কোর্ট মালখানায় জমা রাখতে হবে।

(ঙ)মালখানায়, ট্রেজারীতে, থানা কর্তৃপক্ষের নিকট, লাইসেন্সধারী আগ্নেয়াস্ত্র ডিলারের নিকট অথবা বৈধ কোন অস্ত্রভান্ডারে দীর্ঘদিন দাবীদারহীন অবস্থায় থাকা আগ্নেয়াস্ত্র বাজেয়াপ্ত করা যাবে।

(চ)The Bengal Arms Act Manual 1924 চ্যাপ্টার ৩ সেকশন ১০ এর ৯৭ বিধি মোতাবেক বাজেয়াপ্তকৃত অস্ত্রের মধ্যে যে সকল অস্ত্র পুলিশ কর্তৃক ব্যবহার উপযোগী তা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সুপারিশের ভিত্তিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতিক্রমে বাংলাদেশ পুলিশ/অন্য কোন সরকারি বিভাগকে সরকারি কাজের জন্য বিনামূল্যে সরবরাহ করা যাবে অথবা অস্ত্র বৈধ লাইসেন্সধারী ব্যক্তি/ডিলারদের নিকট নিলামে বিক্রি করা যাবে। ব্যবহার অনুপযোগী অস্ত্রসমূহ ধ্বংসের উদ্দেশ্যে সমরাস্ত্র কারখানায় প্রেরণ করতে হবে।